| হিজামা থেরাপি কী ? |
হিজামা একটি নববী এবং অতি প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি আরবী শব্দ । যার অর্থ চোষা বা টেনে নেওয়া। আধুনিক পরিভাষায় Cupping(কাপিং) থেরাপি। হিজামার মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট স্থান থেকে স্কেস এর মাধ্যমে নেগেটিভ প্রেশার দিয়ে নিস্তেজ প্রবাহহীন দূষিত রক্ত (Toxin) বের করে আনা হয়। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার পিছনে লিভার ও কিডনি প্রধান ভূমিকা পালন করে। গবেষণা থেকে জানা গেছে হিজামাতে ত্বককে যে নেগেটিভ প্রেশার দেওয়া হয় তা ৩৫ গুণ বেশি এই একই কাজ করে। অর্থাৎ ত্বকে নেগেটিভ প্রেশার দেওয়া হলে যে পদার্থ টেনে নিয়ে আসে তাতেই থাকে সেসব বর্জ্য যা লিভার ও কিডনি ডায়ালাইসিস করে। হিজামা শরীরের একটি বেসিক মেকানিজম এক্টিভেট করে। তা হচ্ছে এন্ডোজেনাস নাইট্রিক অক্সাইড পাথওয়েকে বুস্ট করে দেয়। এই নাইট্রিক অক্সাইডকেই বিজ্ঞানীরা মিরাকল মলিকিউল বা হিলিং মলিকিউল নাম দিয়েছেন। হিজামাতে যে স্ক্র্যাচ হয় এতে ক্যাপিলারি ইনজুরি হয়, এবং এই ক্যাপিলারির এন্ডোথেলিয়াম থেকেই নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়। এতে শরীরের মাংসপেশী সমূহের রক্ত প্রবাহ দ্রুততর হয়। পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের ভিতরের Organ(অঙ্গ) সমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর সতেজ ও শক্তিশালী হয়। এটি মূল চিকিৎসার ব্যবস্থার সাথে একটি অল্টারনেটিভ থেরাপি হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীন মিশরীয় এবং চাইনিজ চিকিৎসকদের আদি লিপি হতে এর নিশ্চিত প্রমান পাওয়া যায়। হযরত মোহাম্মদ (সা:) নিজে হিজামা নিয়েছেন এবং তাঁর উম্মদদেরকে হিজামা নেওয়ার উপদেশ দিয়েছেন।
| হিজামা বিষয়ে হাদিস |
🌿 মহানবী (সা:) বলেছেন, আমি মেরাজের রাতে যাদের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি,তাদের সবাই আমাকে বলেছে,“হে মুহাম্মদ, আপনি আপনার উম্মতকে হিজামার আদেশ করবেন।” [তিরমিজি শরীফ-৩৪৬২]
🌿 মহানবী (সা:) ইরশাদ করেছেন, “জিব্রাইল (আ:) আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যত উপায় অবলম্বন করে,তার মধ্যে হিজামাই হলো সর্বোত্তম।” [মুস্তাদারাকে হাকীম-৭৪৭০]
🌿 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন,“রোগ মুক্তি তিনটি জিনিসের মধ্যে নিহিত। শিঙা লাগানো (হিজামা), মধু পান করা এবং আগুন দিয়ে গরম দাগ দেওয়া। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুন দিয়ে গরম দাগ দেওয়া নিষেধ করি।” [বোখারী শরীফ-৫৬৮১]
🌿 জাবির(রা:) থেকে বর্ণিত,“নবী করিম (সা:) এর পায়ে যে ব্যাথ্যা ছিল,তার জন্য তিনি ইহরাম অবস্থায় হিজামা লাগিয়েছিলেন।”[সুনানে নাসায়ী-২৮৫২]
🌿 সালমা (রা) বর্ণনা করেছেন,“যখন কেউ রাসুল (সা:) এর কাছে এসে মাথা ব্যাথার কথা বলত,তখন তিনি তাদের হিজামা করার কথা বলতেন।” [আবু দাউদ-৩৮৫৮]
🌿 নবী করিম (সা:) বলেছেন,“নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে” [মুসলিম শরীফ-২২০৫]
🌿 আমর বিন আমির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সিঙ্গা (হিজামা) লাগালেন এবং আমাকে এর পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমি তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিলাম। [বোখারী শরীফ-২২৮০]
🌿 উচ্চ রক্তচাপ রোধে হিজামা বা শিঙ্গা পদ্ধতি খুবই কার্যকর। মহানবী (সা.) বলেছেন,‘গরম বৃদ্ধি পেলে হিজামার সাহায্য নাও। কারণ কারো রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে তার মৃত্যু হতে পারে”। [মুস্তাদারকে হাকীম-৭৪৮২]
🌿 ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন, যখন তিনি রোজাদার।’’ [বোখারী শরীফ-৫৬৯৪]
🌿 আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সঃ) ইহরাম অবস্থায় একপাক্ষিক মাথা ব্যথার জন্য হিজামা(কাপিং) চিকিৎসা নিয়েছিলেন। [বোখারী শরীফ-৫৭০১]
| হিজামা থেরাপিতে কী কী রোগ ভালো হয়? |
| কোমর ব্যাথ্যা,ঘাড় ও কাঁধে ব্যাথ্যা | পায়ে ও পায়ের গোড়ালি ব্যাথ্যা | এলার্জি |
| বাতের ব্যাথ্যা,হাটু ব্যাথ্যা | মাইগ্রেন বা মাথা ব্যাথ্যা | রক্ত দূষন |
| মাংশপেশির ব্যাথ্যা | পিঠের ব্যাথ্যা ও মেরুদন্ড ব্যাথ্যা | চর্ম রোগ |
| হাড় ক্ষয় জনিত ব্যাথ্যা | শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথ্যা | ঘুমের সমস্যা |
| রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া | শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা | অলসতা |
| উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ | মুটিয়ে যাওয়া | গ্যাস্ট্রিক |
| অ্যাজমা বা হ্যাপানি | হজম সমস্যা,ক্ষুধামন্দা | ডায়াবেটিস |
| দুশ্চিন্তা | যৌনরোগ | দ্রুত বীর্যপাত |
| স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে | মানসিক সমস্যা | শরীর ঝিমঝিম করা |
| ঘুম না হওয়া | চুল পড়া | ব্রুন |
| হিজামার দাগ কত দিন থাকে? |
আমাদের স্কিনে ৩টি স্তর বা লেয়ার থাকে। i)এপিডার্মিস ii)ডার্মিস iii)হাইপোডার্মিস । হিজামার স্ক্রাচ করা হয় এপিডার্মিস লেয়ারে। এই এপিডার্মিস লেয়ারটি প্রতি ২১ দিন অন্তর অন্তর পুনর্গঠিত হয়। স্কিনের পার্থক্য ভেদে ২৪ ঘন্টা থেকে ৭ দিনের মধ্যে স্কিনে এই দাগ সম্পূর্ণ চলে যায়।
| হিজামার বিশেষ কিছু উপকারিতা:- |
✅ হিজামা টিস্যু থেকে বিষ মুক্ত করতে সহায়তা করে।
✅ লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম সক্রিয় করে।
✅ বড় রক্তনালী পরিষ্কার করে এবং রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় করে।
✅ লিম্ফ্যাটিক গ্রন্থি ও রক্ত নালী পরিষ্কার করে বিশেষ করে পায়ের পাতার, যাহা পরবর্তীতে সারা দেহে ছড়িয়ে পরে, ইহা দেহে থেকে যাওয়া ঔষধের পরিমাণও দেহ থেকে বের করে দেয়।
✅ দেহের অভ্যন্তর (রিফ্লেক্স জোন) এর প্রতিক্রিয়ার অবস্থা সক্রিয় ও উদ্দীপ্ত করে, ফলে আক্রান্ত অঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মস্তিস্কের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
✅ দেহের ভিতরে শক্তি চলাচলের পথ পরিষ্কার করে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে-৫০০০ বছর আগে চীন ও জাপানীরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
✅ চিকিৎসার পরে মানবদেহের ত্বক ও পেশীতে অবশিষ্ট ঔষধ ও বিষ দেহ থেকে শুষে নিতে কাপিং থেরাপি উপকারী। এর ফলে রক্ত থেকে ইউরিক এসিড ও জয়েন্ট থেকে ক্রিস্টাল বের করে দেয়া সহজ হয় ফলে গাউট রোগ ভাল হয়।
✅ দেহের কোন স্থানে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বা কোন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কম হলে তা দূর করতে কাপিং করার দরকার হয়।
💥💥 সুস্থ্য দেহে হিজামা নিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়💥💥

One response to “Hijama Therapy”
-
হিজামা থেরাপি আমি নিয়েছিলাম ২বার আলহামদুল্লিাহ এখন আমি অনেক সুস্থ।




Leave a Reply